উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর অনেক মেয়ের স্বপ্ন থাকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা। তবে পরিবারের চাপে অনেক মেয়ে পড়াশোনা বাদ দিয়ে বিয়ে করে নেন। এর ফলে মাঝপথেই মেয়েদের পড়াশুনা বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়াও কলেজে পড়তে গেলে প্রচুর খরচ রয়েছে বিশেষ করে বইখাতা, সেমিস্টার ফি ও কলেজের দৈনিক যাতায়াত খরচের কারণে অনেক মেধাবী ছাত্রী মাঝপথেই লেখাপড়া ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। এই সমস্ত সমস্যার সমাধান করতেই এবং মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ করতে তাদের বিশেষভাবে আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করেছেন আমাদের রাজ্যের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে যে সমস্ত ছাত্রীরা স্নাতকে ভর্তি হবেন শুধুমাত্র তাদেরই মোট ৫০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অন্নপূর্ণা দিবসের এক মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে এই সুবিধা কার্যকর করার পরিকল্পনা নিয়েছেন রাজ্য সরকার। এর ফলে রাজ্যের বহু মহিলা উচ্চ শিক্ষিত হতে পারবে এবং দেশের উন্নতিতে ও সমাজে তাদের মেধা কে কাজে লাগাতে পারবে।

তিন বছরে কীভাবে মিলবে এই ৫০ হাজার টাকা?

বর্তমানে স্নাতকের মূলত চার বছরের কোর্স। তাই এই টাকা সরাসরি এককালীন না দিয়ে যাতে পুরো কোর্স সম্পূর্ণ করতে পারে সেই উদ্দেশ্যে এই তিনটি কিস্তির মাধ্যমে ছাত্রীদের একাউন্টে দেওয়া হবে। এককালীন পুরো টাকা না দিয়ে, সমগ্র কোর্সে পঠন পাঠনের কথা মাথায় রেখে তিনটি কিস্তিতে এই টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে:

  • প্রথম বছর: কলেজে প্রথম বর্ষে ভর্তি প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হলে দেওয়া হবে ১৭ হাজার টাকা।
  • দ্বিতীয় বছর: দ্বিতীয় বর্ষের পঠনপাঠন ও পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য মিলবে আরও ১৭ হাজার টাকা।
  • তৃতীয় বছর: স্নাতক স্তরের শেষ বর্ষের খরচ মেটানোর জন্য বাকি ১৬ হাজার টাকা প্রদান করা হবে।

অর্থাৎ, তিন বছরে মোট তিনটি কিস্তির মাধ্যমে ছাত্রীরা সরাসরি ৫০ হাজার টাকা হাতে পাবেন, যা তাঁদের কলেজের ফি ও প্রয়োজনীয় বইপত্রের খরচ চালাতে সাহায্য করবে। এর ফলে অনেক পরিবারের মেয়েরা সরকারি এই অনুদান পাওয়ার জন্য এবং তাদের পড়াশুনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কলেজে ভর্তি হয়ে স্নাতক ডিগ্রী কমপ্লিট করতে পারবে।

আবেদনের প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় নথি

এই স্কলারশিপটি এখনো চালু হয়নি সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী এটি ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে চালু হবে তাই অফিসিয়াল পোর্টাল এখনো চালু করা হয়নি তবে সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী এখানে সরাসরি অনলাইনের মাধ্যমেই আবেদন জানাতে হবে। তবে অফিশিয়াল নির্দেশিকা বের হলে আবেদনের ক্ষেত্রে কিছু প্রাথমিক নথি অবশ্যই প্রস্তুত রাখতে হতে পারে:

  • উচ্চ মাধ্যমিক পাশের মূল মার্কশিট ও অ্যাডমিট কার্ড।
  • কলেজে স্নাতক স্তরে ভর্তির বৈধ প্রমাণ বা ফি জমার রসিদ।
  • ছাত্রীর আধার কার্ড এবং ঠিকানার প্রমাণপত্র।
  • সরাসরি সরকারি অনুদানের টাকা পাওয়ার জন্য ছাত্রীর নিজস্ব নামের সচল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের পাসবই।

উচ্চশিক্ষার অর্থ যাতে বাঁধা হয়ে না দাঁড়ায় আর মেয়েদের যাতে আর টাকার অভাবে পড়াশোনা বন্ধ না হয়ে যায় সেই উদ্দেশ্যেই রাজ্য সরকার মেয়েদের এই সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। সরকারি নোটিফিকেশন ও আবেদন প্রক্রিয়া শুরুর দিনক্ষণ জানতে সংশ্লিষ্ট সরকারি পোর্টাল ও কলেজ নোটিস বোর্ডের দিকে নজর রাখাই এখন সেরা উপায়। আবেদন প্রক্রিয়া চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আপনাদের জানিয়ে দেওয়া হবে।

By PALLABI ROY

Editor at Target Chakri, specializing in tracking, verifying, and breaking down government welfare schemes and student scholarships.

সাম্প্রতিক খবর