বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার আগেই ঘোষণা করেছিলেন রাজ্যের সমস্ত বেকার যুবক-যুবতীদের প্রতি মাসে ৩০০০ করে বেকার ভাতা দেওয়া হবে। সেই অনুযায়ী পুজোর আগেই রাজ্যে চালু হতে চলেছে যুবশক্তি প্রকল্প (Yuva Shakti Bharosa Card Scheme)। এই প্রকল্পের রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীরা আবেদন জানাতে পারবেন বিশেষ করে যারা মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক বা গ্রেজুয়েশন পাস করে বেকার হয়ে রয়েছেন তাদের সকলকেই এই প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হবে। দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের মনে প্রশ্ন কবে থেকে এই প্রকল্প চালু হবে? এবং কবে থেকে এই প্রকল্পের টাকা পাবে বেকার যুবক-যুবতীরা? তবে এবার প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। খুব শীঘ্রই রাজ্যে যুবশক্তি প্রকল্পের আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। আপনি যদি রাজ্যের একজন বেকার যুবক হয়ে থাকেন এবং এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে চান তাহলে কবে এই প্রকল্পের আবেদন হবে ও কবে এই প্রকল্পের টাকা দেওয়া হবে? সমস্ত কিছু আজকের প্রতিবেদনে এই প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে নিতে পারবেন।

বিগত সরকার যুব সাথী প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের ১৫০০ করে টাকা দিচ্ছিল। তবে বেকার যুবক-যুবতীদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে তাদের এই টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে তিন হাজার টাকা করা হবে। বাংলার বেকার যুবক-যুবতীরা মাসিক বেকার ভাতা পেলে তাদের অনেক সুবিধা হবে সরকারি চাকরির প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার জন্য। এছাড়াও সরকারের তরফ থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল যারা সরকারি চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাদেরও এককালীন কিছু টাকা দেওয়া হবে। রাজ্য সরকার গত বাজেটেই ঘোষণা করে দিয়েছিলেন রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের এই প্রকল্পে টাকা দেওয়া হবে। সেই অনুযায়ী রাজ্য সরকার বলেছিলেন আগস্ট মাস থেকেই যুবশক্তি প্রকল্পের আবেদনগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হবে। সামনেই রয়েছে দুর্গাপুজো এবং এর আগেই যুবশক্তি প্রকল্পে আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি রাজ্য সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যারা মাধ্যমিক পাস করে রয়েছেন তারা পাবেন প্রতিমাসে ২০০০ টাকা এবং যারা গ্রাজুয়েশন পাস করেছেন তারা পাবেন প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা।

তবে এবার যুবশক্তি প্রকল্পে টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে একটু কড়াকড়ি ও সতর্কতা অবলম্বন করা হবে। এক্ষেত্রে জানা গিয়েছে যুবশক্তি প্রকল্পে টাকা প্রদানের আগে ফিল্ড সমীক্ষা করা হবে।  যারা প্রকৃত প্রাপ্য এবং যারা এই টাকা পেলে উপকৃত হবে তাদের এই প্রকল্পের টাকা দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি রাজ্যে আবার জনকল্যাণ শিবির আয়োজিত হতে চলেছে এবং সেখানেও এই যুবশক্তি প্রকল্পের আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তবে এই যুবশক্তি প্রকল্পে আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া সরাসরি অনলাইনের মাধ্যমেই শুরু হবে এবং অনলাইন ও অফলাইন দুটো পদ্ধতিতে আবেদন প্রক্রিয়া চলবে কিনা সে ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যায়নি।

রাজ্য সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যারা রাজ্যে এতদিন যুবশ্রী প্রকল্পে এবং যুব সাথী প্রকল্পে টাকা পেতেন সেই দুটি প্রকল্পকে একত্রিত করে এই যুবশক্তি ভরসা প্রকল্প চালু করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের সুবিধাও অনেক বেশি এবং এই প্রকল্পে টাকার পরিমানও অনেক বেশি। তবে এই প্রকল্পের টাকা পেতে গেলে আবেদনকারীর অবশ্যই নিজস্ব ব্যাংক একাউন্ট থাকতে হবে এবং DBT লিংক যুক্ত ব্যাংক একাউন্ট থাকতে হবে। রাজ্য সরকার সরাসরি DBT লিংক যুক্ত একাউন্টে টাকা পৌঁছে দেবে এজন্য অবশ্যই ব্যাংক একাউন্টের সঙ্গে আধার কার্ডের লিংক থাকা আবশ্যক। এবার থেকে আর ব্যাংকের মাধ্যমে নয় সরাসরি আধার কার্ডের মাধ্যমে টাকা পাঠানো হবে, তাই আধার কার্ডের সঙ্গে যেই ব্যাংক একাউন্ট লিংক করা থাকবে সরাসরি সেই একাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে।

এই প্রকল্পে আবেদন করতে হলে আবেদনকারী ন্যূনতম বয়স হতে হবে ২১ বছর এবং সর্বোচ্চ ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত টাকা দেওয়া হবে। এছাড়াও এখানে ন্যূনতম মাধ্যমিক পাশ যোগ্যতা থাকতে হবে এবং সর্বোচ্চ স্নাতক পাস যোগ্যতা থাকলেও এই প্রকল্পের টাকা পেয়ে যাবেন। মাধ্যমিক অথবা উচ্চ মাধ্যমিক পাশ হলে প্রতি মাসে দেওয়া হবে ২০০০ করে টাকা এবং স্নাতক পাস হলে প্রতি মাসে দেওয়া হবে তিন হাজার করে টাকা।

যাদের পরিবারের মাসিক ইনকাম এক লক্ষ টাকার কম সেই সমস্ত পরিবারের বেকার যুবক-যুবতীদের এই প্রকল্পের ভাতা দেওয়া হবে। যতদিন পর্যন্ত কর্মসংস্থান না হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত এই ভাতা দেওয়া হবে বেকার যুবক-যুবতীদের। কর্মসংস্থান হলে বা যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি চাকরি পেলে এই টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারী যেহেতু আগে অক্টোবর মাসে এই টাকা দেওয়ার জন্য আবেদন গ্রহণের কথা ঘোষণা করেছিলেন তাই দুর্গাপূজার আগেই এই প্রকল্পে আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।

এখানে আবেদন জানাতে হলে আবেদনকারীর অবশ্যই প্রয়োজনীয় সমস্ত ডকুমেন্টগুলো রেডি রাখতে হবে। বিশেষ করে আবেদনকারীর ব্যাঙ্ক একাউন্ট, শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণপত্র, মোবাইল নাম্বার ও পরিচয় পত্র হিসেবে আধার কার্ড ও ভোটার কার্ড এবং ইনকাম সার্টিফিকেট। এই আবেদন শুরু হওয়ার আগে এগুলো অবশ্যই আপনারা রেডি করে রাখবেন। আবেদন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনাদের জানিয়ে দেওয়া হবে।

By PALLABI ROY

Editor at Target Chakri, specializing in tracking, verifying, and breaking down government welfare schemes and student scholarships.