বাজেটে বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য ঘোষণা করা হয়েছিল যুবশক্তি ভরসা কার্ড প্রকল্পের কথা। যেখানে বেকার যুবক-যুবতীদের প্রতি মাসে বেকার ভাতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। সামনেই রয়েছে দুর্গাপুজো। আর এই পুজোর মুখে রাজ্যের সমস্ত শিক্ষিত বেকারদের জন্য ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’ চালু করার কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে নবান্ন। বাজেট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের সমস্ত বেকার যুবক-যুবতীদের মনে কৌতুহল সৃষ্টি হয়ে রয়েছে। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন অক্টোবর মাস থেকেই যুবশক্তি প্রকল্পের টাকা দেওয়া হবে বেকার যুবক-যুবতী ভাই-বোনদের। তবে তবে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবং অক্টোবর থেকে প্রকল্প কার্যকরের কথা থাকলেও হঠাৎই এক নতুন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে—মেয়েরা নাকি এই প্রকল্পের টাকা পাবেন না! বিষয়টি ঠিক কতটা সত্যি? সরকারি তথ্য ও রূপরেখা কী বলছে, জেনে নিন আজকের এই প্রতিবেদনে বিস্তারিত।

মেয়েরা কি সত্যিই আবেদন করতে পারবেন না?

এমন কোন কথা কোথাও বলা হয়নি যে মেয়েরা এই প্রকল্পে আবেদন জানাতে পারবেন না। সরকারের তরফ থেকে প্রশাসনিক স্তরে মেয়েদের বাদ দেওয়ার মতো কোনো নির্দেশ বা ঘোষণা আসেনি। আর মেয়েদের কেন বাদ দিবে বা তাদের বাদ দেওয়ার কোন প্রশ্নই নেই। তবে বেশ কিছু কারণে আপনার আবেদন পত্রটি বাতিল হয়ে যেতে পারে। সরকারের নির্দেশিকার না আসা পর্যন্ত আগে থেকে কিছু বলা যাচ্ছে না তবে এখনো পুরো ব্যাপারটি পরিষ্কার নয়।

  • পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজ্যের কর্মহীন যুবক ও যুবতী উভয়ের এই প্রকল্পের জন্য উপযুক্ত। মেয়েদের এখানে বাদ দেওয়া হবে না। তবে মেয়েরা যদি লক্ষী ভান্ডারে টাকা পেয়ে থাকে তাহলে তারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে না।
  • যুবশক্তি ভরসা কার্ডের যে যোগ্যতা সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, সেই যোগ্যতা পূরণ করলে তরুণ-তরুণী উভয়েই সমান হারে আর্থিক সহায়তা প্রতিমাসে পেয়ে যাবেন।
  • ফলে মেয়েরা প্রকল্প থেকে পুরোপুরি বাদ—এমন দাবি একেবারেই ভিত্তিহীন গুজব। তবে লক্ষী ভান্ডার পেলে সে ক্ষেত্রে বাদ পড়বে এটা কিন্তু অস্বীকার করা যায় না।

কাদের জন্য কত টাকা বরাদ্দ হতে পারে?

রাজ্য সরকারের যে বাজেট পেশ করা হয়েছে সেখানে যোগ্যতা অনুযায়ী ভাতার পরিমাণ আলাদা হওয়ার কথা বলা রয়েছে :

  • স্নাতক বেকারদের ক্ষেত্রে: যে সমস্ত বেকার যুবক যুবতীরা স্নাতক বা স্নাতকোত্তর করে রয়েছে তারা প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব রয়েছে।
  • মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক উত্তীর্ণদের ক্ষেত্রে: যে সমস্ত প্রার্থীরা মাধ্যমিক অথবা উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে বেকার রয়েছেন তাদের প্রতি মাসে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত ভাতা দেওয়া হতে পারে।
  • এবার রাজ্য সরকারের সমস্ত প্রকল্পের টাকা DBT সক্রিয় ব্যাংক একাউন্টে পাঠানো হবে তাই টাকা পাওয়ার আগে অবশ্যই আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আধার কার্ডের সঙ্গে DBT লিঙ্ক করিয়ে রাখবেন।

আবেদনকারীদের সম্ভাব্য যোগ্যতা ও শর্তাবলী

এখানে আবেদন করার জন্য আবেদনকারীদের বেশ কিছু যোগ্যতার মানদণ্ড টাকা প্রয়োজন:

  • বয়সসীমা: আবেদনকারীর বয়স এখানে ন্যূনতম ২১ থেকে ৪০ বা সর্বোচ্চ ৪৫ বছরের মধ্যে হতে পারে (সরকারি চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হওয়ার পরেই বয়সের ব্যাপারটি স্পষ্ট হবে)।
  • পারিবারিক আয়: এখানে আবেদন করতে গেলে পরিবারের মাসিক আয় অবশ্যই এক লক্ষ টাকার কম হতে হবে। যে সমস্ত পরিবারের মাসিক আয় এক লক্ষ টাকার বেশি বা যারা সরকারি চাকরিতে যুক্ত তারা এই প্রকল্পের টাকা পাবেন না।
  • বাসস্থান: এখানে আবেদন করতে হলে আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের একজন স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
  • ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট: যে আবেদন করবেন অর্থাৎ আবেদনকারের অবশ্যই নিজের ব্যাংক একাউন্ট থাকতে হবে এবং ব্যাংক একাউন্টে অবশ্যই আধার কার্ডের সঙ্গে লিংক থাকতে হবে ও DBT লিংক থাকা বাধ্যতামূলক।

কবে চালু হচ্ছে পোর্টাল?

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী অক্টোবর মাস থেকে এই প্রকল্পটি চালু হওয়ার কথা রয়েছে। পুজোর আগেই হয়তো আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া চলবে এবং পুজোর পরে বেকার যুবক-যুবতীদের টাকা দেওয়া হতে পারে। চলতি মাসে বা অক্টোবর মাসে আবেদনের জন্য অনলাইন পোর্টাল চালু হতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলে চর্চা চলছে। তবে আপাতত সরকারের নির্দেশিকা না আসা পর্যন্ত কোন ভুল খবরের বা বিভ্রান্ত করো খবরে কান না দিয়ে সঠিক খবরের দিকে নজর রাখুন। সরকারিভাবে অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত হওয়ার পরে সমস্ত ব্যাপারটি পরিষ্কার হয়ে যাবে।

By SUBHOJIT ROY

Subhojit Roy is the Technology & General News Editor at Target Chakri, covering emerging tech trends, digital innovations, and everyday breaking updates with accuracy

সাম্প্রতিক খবর