রান্নার গ্যাসের সংকট হওয়ার পর থেকে রান্নার গ্যাস বুকিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার ফুরিয়ে যাওয়া, সময়মতো বুকিং করা কিংবা ডেলিভারির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করা—প্রতিটি পরিবারের কাছেই এটি এক বড় মাথাব্যথার কারণ। এবার এই সমস্ত সমস্যার সমাধান হতে যাচ্ছে। এই ধরনের ঝামেলা থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্তি দিতে এবং রান্নার জ্বালানি সরবরাহ আরও সহজ করতে এক বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক এবং পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস রেগুলেটরি বোর্ডের (PNGRB) যৌথ উদ্যোগে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে এক বিশেষ জাতীয় কর্মসূচি। বিশ্বজুড়ে পেট্রোলিয়ামের সংকট তৈরি হওয়ায় এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালীতে সমস্যার জন্য আমাদের দেশেও গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট দেখা গিয়েছিল এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছিল। এবার কেন্দ্রের নতুন এই উদ্যোগের আওতায় দেশের লাখ লাখ পরিবারে সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে রান্নার গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ এবার ঘরে ঘরে রান্নার গ্যাস পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করছে সরকার।
National PNG Drive 3.0: সরকারের মেগা পরিকল্পনা কী?
এলপিজি (LPG) সিলিন্ডারের বিকল্প হিসেবে পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস বা পিএনজি (PNG) ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। এই উদ্দেশ্যে এবার কেন্দ্র সরকার ঘরে ঘরে গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করছে। এই লক্ষ্যে National PNG Drive 3.0 নামক একটি দেশব্যাপী অভিযান শুরু করা হয়েছে।
এই বিশেষ অভিযানটি চলবে ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত। এই সময়সীমার মধ্যে দেশের প্রায় ৫০ লাখ পরিবারকে নতুন পাইপলাইন গ্যাস কানেকশনের আওতায় আনার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। শুধু নতুন সংযোগ দেওয়াই নয়, দেশে আগে থেকে থাকা কিন্তু বর্তমানে বন্ধ বা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে থাকা প্রায় ৪০ লাখ পিএনজি কানেকশন ফের চালু করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ আগামী কয়েক বছরের মধ্যে যত বেশি সম্ভব পরিবারকে পাইপলাইন গ্যাসের মাধ্যমে যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্র সরকার। এর ফলে আপনার বাড়িতে যেমন বিদ্যুৎ আসে তারের মাধ্যমে ঠিক তেমনি আপনার বাড়িতে গ্যাস পৌঁছে যাবে পাইপ লাইনের মাধ্যমে।
LPG সিলিন্ডারের চেয়ে PNG কতটা সুবিধাজনক?
চিরাচরিত এলপিজি সিলিন্ডারের বদলে পাইপলাইনের গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে গ্রাহকরা বেশ কিছু স্পষ্ট সুবিধা পাবেন:
- সিলিন্ডার বুকিং ও ডেলিভারির ঝামেলা নেই: পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি রান্নাঘরে গ্যাস পৌঁছাবে। এর ফলে আপনার গ্যাসের জন্য আর চিন্তা করতে হবে না এছাড়াও সিলিন্ডার বুক করা বা ডেলিভারি বয়ের জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন পড়বে না।
- বাড়িতে ভারী সিলিন্ডার রাখার চিন্তা শেষ: অনেক সময় বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার রেখ বাইরে কোথাও গেলে দুশ্চিন্তা হয়। এর পাশাপাশি নতুন এই পাইপ লাইনের মাধ্যমে রান্নাঘরে গ্যাস পৌঁছে গেলে রান্নাঘরে সিলিন্ডার রাখার জায়গা দখল হবে না এবং মাঝপথে হঠাৎ গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকবে না।
- ব্যবহৃত গ্যাসের ওপরই বিল: বিদ্যুতের মতো এখানেও মিটার বসানো থাকবে। আপনি ঠিক যতটুকু গ্যাস পোড়াবেন, মাস শেষে কেবল সেইটুকুর জন্যই বিল মেটাতে হবে। আপনার পরিবারের জন্য যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই গ্যাস ব্যবহৃত হবে এবং মাস শেষে লাইনের বিলের মত গ্যাসের বিল দিতে হবে।
সিলিন্ডার বুকিংয়ের নিয়মে কী পরিবর্তন হয়েছিল?
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও হরমুজ প্রণালী ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনার জেরে দুটি এলপিজি সিলিন্ডার বুকিংয়ের মধ্যবর্তী সময়সীমা কিছুটা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। সমগ্র বিশ্বে এই পরিস্থিতির জন্য গ্যাসের সংকট তৈরি হয়েছিল এবং আমাদের ভারতেও গ্যাসের সংকট তৈরি হয়েছিল তাই গ্যাসের চাহিদা কিছুটা কমাতে গ্যাস বুকিং এর টাইম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে গ্রাহকদের স্বস্তি দিয়ে সেই সময়সীমা বর্তমানে তুলে নিয়ে নিয়ম আগের মতোই স্বাভাবিক করে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ এখন আপনারা আগের মত ২৫ দিন অন্তর অন্তর গ্যাস বুকিং করতে পারবেন।
সরকার মূলত দেশজুড়ে ‘One Nation, One Gas Grid’ লক্ষ্যকে বাস্তবে রূপ দিতে চাইছে। আপনি যদি এই পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সংযোগ নিতে চান তাহলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিবিউটর সংস্থার নিয়মাবলী, প্রাথমিক কানেকশন ফি এবং স্থানীয় গ্যাসের দর যাচাই করে এর জন্য আবেদন জানাতে পারেন।
