যাদের দীর্ঘদিন ধরে স্বপ্ন রয়েছে ভারতীয় রেলে চাকরি করা সেই সমস্ত চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুখবর নিয়ে এল রেলওয়ে রিক্রুটমেন্ট বোর্ড (RRB)। উচ্চমাধ্যমিক পাস যোগ্যতায় নন-টেকনিক্যাল পপুলার ক্যাটাগরি অর্থাৎ এনটিপিসি আন্ডারগ্র্যাজুয়েট স্তরে কর্মী নিয়োগের প্রাথমিক বিজ্ঞপ্তি সামনে এসেছে। সারা দেশের বিভিন্ন রেলওয়ে জোন মিলিয়ে মোট ১,৬৮৮টি শূন্যপদে এই নিয়োগ করা হবে। উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে থাকলে এই চাকরির জন্য আবেদনের সুযোগ পাবেন।
কোন কোন পদে নিয়োগ এবং বেতন কত?
এই রিক্রুটমেন্ট মাধ্যমে মূলত চারটি আলাদা পদে কর্মী নেওয়া হচ্ছে:
- কমার্শিয়াল-কাম-টিকিট ক্লার্ক: শূন্যপদ রয়েছে মোট ৭০০টি। এই পদের ক্ষেত্রে শুরুতে মূল বেতন ২১,৭০০ টাকা।
- জুনিয়র ক্লার্ক-কাম-টাইপিস্ট: মোট ফাঁকা পদ ৬০০টি। এই পদে প্রারম্ভিক মূল বেতন ধার্য করা হয়েছে ১৯,৯০০ টাকা।
- অ্যাকাউন্টস ক্লার্ক-কাম-টাইপিস্ট: শূন্যপদ রয়েছে ২০০টি। মূল বেতন শুরু হবে ১৯,৯০০ টাকা থেকে।
- ট্রেন ক্লার্ক: মোট শূন্যপদ ১৮৮টি। এই পদের ক্ষেত্রেও প্রাথমিক মূল বেতন ১৯,৯০০ টাকা।
কেন্দ্রীয় সপ্তম বেতন কমিশনের নিয়ম মাফিক মূল বেতনের পাশাপাশি মহার্ঘ ভাতা (DA), বাড়িভাড়া ভাতা (HRA) এবং পরিবহণ ভাতার মতো অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও যুক্ত হবে। তবে কেন্দ্র সরকারের নিয়ম অনুযায়ী অষ্টম বেতন কাঠামো চালু হলে এই সমস্ত কর্মীরা অষ্টম বেতন কাঠামোর আওতায় বেতন পেয়ে যাবেন।
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বয়সের মাপকাঠি
- পড়াশোনার যোগ্যতা: আবেদনকারীকে যে কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে ন্যূনতম উচ্চ মাধ্যমিক (১০+২) বা তার সমতুল্য পরীক্ষায় পাশ করতে হবে।
- টাইপিং সংক্রান্ত নিয়ম: জুনিয়র ক্লার্ক এবং অ্যাকাউন্টস ক্লার্ক পদের জন্য কম্পিউটারে ইংরেজি বা হিন্দি টাইপিং জানার দরকার পড়বে। তবে টিকিট ক্লার্ক ও ট্রেন ক্লার্ক পদের জন্য কোনো টাইপিং টেস্টের বাধ্যবাধকতা নেই।
- প্রার্থীর বয়স: ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি তারিখে আবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে থাকতে হবে। সংরক্ষিত শ্রেণির (SC/ST/OBC ইত্যাদি) প্রার্থীরা সরকারি নিয়ম মেনে বয়সের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ছাড় পাবেন।
আবেদন ফি ও টাকা ফেরতের নিয়মাবলী
সাধারণ ও ওবিসি ক্যাটাগরির প্রার্থীদের জন্য আবেদনের ফি ধার্য করা হয়েছে ৫০০ টাকা। তবে এই প্রার্থীরা সিবিটি-১ (CBT-1) পরীক্ষায় বসলে ব্যাঙ্ক চার্জ বাদে ৪০০ টাকা তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে রিফান্ড করে দেওয়া হবে।
অন্য দিকে তফশিলি জাতি, উপজাতি, মহিলা, পিডব্লিউডি এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া (EWS) প্রার্থীদের ফি হিসেবে ২৫০ টাকা দিতে হবে। পরীক্ষায় উপস্থিত থাকলে এই প্রার্থীদের পুরো ২৫০ টাকাই পরবর্তীতে ফেরত দিয়ে দেওয়া হবে।
কী পদ্ধতিতে প্রার্থী বাছাই করা হবে?
নিয়োগ প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে:
- প্রথম পর্ব (CBT-1): প্রথমে ১০০ নম্বরের কম্পিউটার বেসড পরীক্ষা হবে, যার জন্য সময় থাকবে ৯০ মিনিট।
- দ্বিতীয় পর্ব (CBT-2): প্রথম ধাপে সফলদের নিয়ে হবে ১২০ নম্বরের মূল কম্পিউটার পরীক্ষা।
- দক্ষতা যাচাই: যেসব পদের জন্য টাইপিং দরকার, সেগুলির ক্ষেত্রে টাইপিং টেস্ট নেওয়া হবে।
- শেষ পর্ব: নথিপত্র যাচাই (Document Verification) এবং নির্দিষ্ট মেডিক্যাল ফিটনেস টেস্ট। উভয় লিখিত পরীক্ষাতেই নেগেটিভ মার্কিং থাকবে, অর্থাৎ প্রতি ভুল উত্তরের জন্য ১/৩ নম্বর কাটা যাবে।

আবেদন প্রক্রিয়া কবে থেকে শুরু?
রেলওয়ে রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১৪ অক্টোবর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বিস্তারিত নোটিফিকেশন প্রকাশ করা হবে। এরপর ১৫ অক্টোবর থেকে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদনের ফর্ম পূরণ শুরু হয়ে চলবে ১৩ নভেম্বর রাত বারোটা পর্যন্ত। যোগ্য প্রার্থীরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রেলওয়ে রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজেদের আবেদনপত্র জমা দিতে পারবেন।
