আপনার এবং আপনার পরিবারের কি রেশন কার্ড রয়েছে? এবার রেশন ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় কড়াকড়ি শুরু করেছে খাদ্য দফতর। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো, যাদের কাছে ভুয়া বা অপ্রয়োজনীয় রেশন কার্ড রয়েছে সেগুলো বাতিল করে কেবলমাত্র আসল ও দরিদ্র পরিবারগুলোর কাছে বিনামূল্যে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া। যাদের রেশনের প্রয়োজন নেই তাদের রেশন কার্ড বাতিল করা হবে বিশেষ করে এই প্রক্রিয়ায় এবার এমন উপভোক্তাদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে, যাঁদের নামে কার্ড রয়েছে ঠিকই কিন্তু মাসের পর মাস ধরে তাঁরা দোকান থেকে কোনো চাল বা গম তোলেন না। এর পাশাপাশি যারা ইনকাম ট্যাক্স ফাইল করেছেন এবং কোন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তাদেরও রেশন কার্ড বাতিল হবে। ইতিমধ্যেই এমন গ্রাহকদের কার্ড দ্রুত নিষ্ক্রিয় করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

কেন বন্ধ হতে পারে কার্ড?

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কেবলমাত্র সরকারি পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহার করার জন্য বা অন্যান্য সুবিধার আশায় অনেকে রেশন কার্ড তৈরি করে রেখেছেন। তবে সরকারি পরিচয় পত্র বা প্রমাণপত্র হিসেবে আরও বিভিন্ন ডকুমেন্টস রয়েছে যেগুলো সরকার যে যেকোনো কাজের ক্ষেত্রে গ্রহণ করেন। তাই যারা সরকারি কাজ কর্মের ক্ষেত্রে রেশন কার্ড রেখেছেন তারা দিনের পর দিন তাঁরা রেশন ডিলারের কাছে যান না। এর ফলে রেশন কার্ড বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পরিবার যদি টানা ৬ মাস বা তার বেশি সময় ধরে রেশন দোকান থেকে কোনো খাদ্যসামগ্রী না তোলে, তবে সেই কার্ডগুলোকে ‘সাইলেন্ট’ বা নিষ্ক্রিয় কার্ডের তালিকায় ফেলে দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে রেশন তুলতে গেলে প্রতি মাসেই আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে রেশন তুলতে হয়। এর ফলে সরকারের কাছে সিগন্যাল চলে যায় কোনগুলো কার্ড সক্রিয় রয়েছে এবং কোনগুলো নিষ্ক্রিয়। ঝাড়খণ্ড সহ বেশ কিছু রাজ্যে ইতিমধ্যেই এই নিয়ম চালু হয়েছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের পর এই ধরনের কার্ডগুলো সাময়িকভাবে ব্লক বা নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হতে পারে।

কার্ড বন্ধ হলে কীভাবে আবার চালু করবেন?

যদি দীর্ঘ সময় খাদ্যসামগ্রী না তোলার কারণে কারও কার্ড সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়, তবে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। সরকার কার্ড পুনরায় চালু করার বিকল্প পথও খোলা রাখছে:

  • কার্ড নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলেও গ্রাহকেরা ই-কেওয়াইসি (e-KYC) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেটি আবার সচল করার সুযোগ পাবেন। এক্ষেত্রে আবারো সমস্ত তথ্য দিয়ে নতুন করে কার্ডটি চালু করতে হবে।
  • নিজের নিকটবর্তী রেশন ডিলার বা খাদ্য দফতরের অফিসে গিয়ে আঙুলের ছাপ (বায়োমেট্রিক) দিয়ে এবং আধার যাচাই সম্পন্ন করে কার্ড রি-অ্যাক্টিভেট করা যাবে।
  • কার্ডটি বর্তমানে সচল আছে নাকি সাময়িক বন্ধ হয়ে গেছে, তা খাদ্য দফতরের অফিশিয়াল পোর্টালে গিয়ে অথবা স্থানীয় রেশন ডিলারের ই-পস (e-PoS) মেশিনে আঙুল দিয়ে সহজেই পরীক্ষা করে নেওয়া সম্ভব।

নিয়মিত খাদ্যসামগ্রী তোলার অভ্যাস রাখা এবং কার্ডের সাথে আধার লিঙ্কের কাজ সম্পূর্ণ রাখাই এখন এই ধরনের সমস্যা এড়ানোর সবচেয়ে সহজ উপায়। তাই প্রতিমাসে আপনার রেশন তোলা বাধ্যতামূলক। আপনার যদি সরকারি সুবিধা বা রেশনের প্রয়োজন না হয় তাহলে আপনার কার্ড বাতিল করে দেওয়া হবে।

By SUBHOJIT ROY

Subhojit Roy is the Technology & General News Editor at Target Chakri, covering emerging tech trends, digital innovations, and everyday breaking updates with accuracy