রাজ্যে বহুল চর্চিত অন্নপূর্ণা যোজনা(Annapurna Yojana) নিয়ে আবারো উঠে এলো নতুন একটি আপডেট। রাজ্যে নতুন করে পালাবদলের পরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মহিলাদের সহায়তায় চালু করেছেন অন্নপূর্ণা যোজনা। চলতি মাসেই রাজ্যের দেড় কোটিরও বেশি যোগ্য মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই প্রকল্পের ৩ হাজার টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। যদিও এখনও বহু মহিলা এই প্রকল্পের টাকা পায়নি তাই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিপুল সংখ্যক আবেদনকারীর মধ্যে ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে উৎসবের মরশুমের মুখেই আটকে থাকা যোগ্য প্রাপকদের জন্য ইতিবাচক আশ্বাসের কথা জানানো হয়েছে। রাজ্য সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী আবারও পুজোর আগে নতুন করে অন্নপূর্ণা যোজনায় টাকা ঢুকবে এবং যারা এখনো পর্যন্ত একটি কিস্তিরও টাকা পান নিয়ে তারাও অনেকে এবার টাকা পাবেন।
কারা পাবেন পুজোর আগে টাকা?
এখনো যারা অন্নপূর্ণা যোজনা টাকা পাননি এবং এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে এখনও যাঁরা বঞ্চিত রয়েছেন, তাঁদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। বর্ধমানের এক কর্মসূচি থেকে জানানো হয়, যাঁদের নথিপত্র যাচাই বা ভেরিফিকেশন পর্ব সফলভাবে সম্পন্ন হয়ে ‘Approved’ তালিকায় উঠেছে, তাঁদের কাউকেই বাদ রাখা হবে না। ইতিমধ্যেই অনেকের স্ট্যাটাস আন্ডার প্রফেস দেখাচ্ছে এর মানে হচ্ছে এদের আবেদনপত্র জমা হয়েছে ঠিকই তবে এদের তথ্যগুলো যাচাই চলছে। তবে যাদের যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং যাদের সবকিছু ঠিকঠাক থাকবে সেই সমস্ত উপভোক্তাদের দুর্গাপুজো শুরু হওয়ার আগেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা ট্রান্সফার করে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
কেন ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল উপভোক্তাদের মধ্যে?
গত ১৭ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক সূচনার পর থেকে ধাপে ধাপে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে মাসিক কিস্তির ৩,০০০ টাকা পাঠানো শুরু হয়। কিন্তু দেখা গিয়েছে সঠিক নিয়ম মেনে আবেদনপত্র জমা করার পরেও অনেক উপভোক্তার একাউন্টে টাকা ঢুকেনি। বিশেষ করে প্রশাসনিক জটিলতা বা ভেরিফিকেশনের স্তরে আটকে থাকায় এখনও প্রথম কিস্তির দেখা মেলেনি। এর ফলে দেখা গিয়েছে রাজ্যের জেলায় জেলায় উপভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ। এবার রাজ্যবাসীদের সেই উৎকণ্ঠা কাটাতেই দ্রুত অর্থ ছাড়ার এই বার্তা দেওয়া হয়েছে।
বাকিদের টাকা কবে নাগাদ ঢুকবে?
যাঁদের ভেরিফিকেশন ইতিমধ্যে অনুমোদিত হয়ে গিয়েছে, তাঁদের অ্যাকাউন্টে পুজোর আগেই টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শেষ করার উদ্যোগ চলছে। অর্থাৎ পুজোর আগেই আবারো নতুন করে আরেক কিস্তি টাকা ঢুকতে চলেছে উপভোক্তাদের একাউন্টে। আর যাঁদের যাচাইয়ের কাজ এখনও চলছে, তাঁদের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে অক্টোবর মাসের মধ্যেই প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে।
যাঁদের অ্যাকাউন্টে এখনও টাকা ঢোকেনি, তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আধার ও ডিবিটি (DBT) সক্রিয় রয়েছে কি না তা দেখে নেওয়ার এবং নিজের আবেদনের বর্তমান স্ট্যাটাস যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সমস্ত কিছু ঠিকঠাক থাকলে পরবর্তী কিস্তিতে অনেক নতুন উপভোক্তার একাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে।
