Annapurna & Yuva Shakti: অন্নপূর্ণা ও যুবশক্তি প্রকল্পে ফের আবেদনের বড় সুযোগ! কবে ও কোথায় বসবে শিবির? জানুন বিস্তারিত

রাজ্যের সাধারণ মানুষের জন্য চালু হওয়া বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা এখন তুঙ্গে। বিশেষ করে মহিলাদের মাসিক সহায়তার জন্য অন্নপূর্ণা যোজনা এবং বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য প্রস্তাবিত যুবশক্তি প্রকল্পের খবর নজর কাড়ছে সবার। মহিলারা অন্নপূর্ণা যোজনা এবং বেকার যুবক-যুবতীরা যুবশক্তি প্রকল্পের জন্য অধীর আগ্রহে রাজ্য সরকারের দিকে চেয়ে বসে আছে। ইতিমধ্যে বিপুল সংখ্যক যোগ্য মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আর্থিক সহায়তার বেশ কয়েকটি কিস্তি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তবে যুবশক্তি প্রকল্পে এখনো আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরুই হয়নি। এই পরিস্থিতিতে যাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে বাদ পড়েছেন, তাঁদের জন্য নতুন করে নাম নথিভুক্ত করার সুযোগের কথা সামনে এসেছে। এমনকি যুবশক্তি প্রকল্পেও নতুন করে ফরম ফিলাপ শুরু হবে।

কারা পাচ্ছেন অন্নপূর্ণা যোজনার সহায়তা?

সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, যাদের বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে এবং যারা আর্থিকভাবে পিছিয়ে রয়েছে সেই সমস্ত যোগ্য মহিলাদের প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক ভাতা পেয়ে যাবেন। রাজ্যের ১.৫ কোটিরও বেশি মহিলা ইতিপূর্বে এই আর্থিক সহায়তার আওতাভুক্ত হয়েছেন। তবে বিপুল পরিমাণ আবেদন একসঙ্গে জমা পড়ায় এখনো অনেক মহিলার আবেদন পত্র যাচাই চলছে। বিশেষ করে প্রতিটি নথিপত্র এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখতে প্রশাসনিক স্তরে কিছুটা বাড়তি সময় লাগছে। ফলে আবেদন ঠিক থাকা সত্ত্বেও অনেকে এখনও একটি কিস্তির অর্থ হাতে পাননি এবং এই নিয়ে বেশ কিছু জায়গায় ক্ষোভও দেখা দিয়েছে।

কবে ও কোথায় শুরু হবে নতুন আবেদন?

প্রথম পর্যায়ে যাঁরা সুযোগ পাননি কিংবা যাঁদের ফর্ম কোনো ভুলভ্রান্তির কারণে আটকে রয়েছে, তাঁদের আর হতাশ হওয়ার কারণ নেই। আবারো নতুন করে আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। জানা যাচ্ছে, আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে রাজ্যজুড়ে ফের সরকারি স্তরে বিশেষ ‘জনকল্যাণ শিবির’ আয়োজন করা হতে পারে। যাদের আবেদনে কোন সমস্যা বা ভুল ভ্রান্তি রয়েছে তারা জনকল্যাণ শিবিরে গিয়ে নতুন করে আবেদন জমা দিতে পারবেন।

এই শিবিরগুলি থেকে সাধারণ মানুষ যে সুবিধাগুলো পাবেন:

  • অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য নতুন করে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ।
  • যুবশক্তি সহ রাজ্যের অন্যান্য সমস্ত জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের আবেদনও একই জায়গা থেকে গ্রহণ করার সম্ভাবনা।
  • পুরনো জমা দেওয়া আবেদনে কোনো ভুল তথ্য বা ত্রুটি থাকলে তা সরাসরি সংশোধন করে নেওয়ার সুযোগ।
  • এর পাশাপাশি কৃষক বন্ধু থেকে শুরু করে ভাতা ও অন্যান্য সকল সমস্যার জন্য ডকুমেন্ট জমা দিয়ে এখান থেকে সমাধান করতে পারবেন।

আবেদনকারীদের এখন থেকে কী কী গুছিয়ে রাখা দরকার?

পরবর্তী দফায় শিবির শুরু হলে যাতে লাইনে দাঁড়িয়ে কোনো ঝামেলায় পড়তে না হয়, তার জন্য প্রয়োজনীয় আসল ও জেরক্স কাগজপত্র আগেভাগেই ঠিক করে রাখা ভালো:

  • নিজের সচল আধার কার্ড ও ভোটার কার্ডের পরিষ্কার জেরক্স কপি ।
  • বয়সের প্রমাণপত্র ও স্থায়ী বাসিন্দার প্রমাণপত্র।
  • আবেদনকারীর নিজস্ব নামের সচল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের পাসবই (যেটিতে ডিবিটি ও আধার সক্রিয় থাকা বাধ্যতামূলক)।
  • সাম্প্রতিক তোলা রঙিন পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার মার্কশিট বা সার্টিফিকেট (যুবশক্তি বা অন্যান্য প্রাসঙ্গিক প্রকল্পের ক্ষেত্রে)।

যারা এখনো কোনো প্রকল্পের আওতায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি তারা আতঙ্কিত না হয়ে অবশ্যই সমস্ত নথিপত্র প্রস্তুত রাখুন এবং সময় হলে অবশ্যই ডকুমেন্ট জমা দেবেন। ঘোষণা অনুযায়ী নভেম্বর-ডিসেম্বরের সম্ভাব্য শিবিরের দিকে নজর রাখাই এখন সবচেয়ে সঠিক পথ।