আবারো পশ্চিমবঙ্গের সকল বেকার যুবক যুবতীদের জন্য এলো বিশাল বড় সুখবর। তৃণমূল সরকার পশ্চিমবঙ্গের বেকার যুবক যুবতীদের জন্য চালু করেছিল যুব সাথী প্রকল্প তবে পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরে চালু করতে চলেছে বহুল আলোচিত ‘যুবশক্তি প্রকল্প’। এই প্রকল্পের জন্য অবশেষে চালু হয়ে গেল অনলাইন পোর্টাল। রাজ্যের বেকার যুবক যুবতীদের এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতি মাসে 3000 করে টাকা দেওয়া হবে। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত বেকার যুবক-যুবতীরা ভীষণভাবে উপকৃত হবেন।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে সমস্ত বেকার যুবক-যুবতীদের তিন হাজার করে টাকা দেওয়া হবে এর পাশাপাশি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এককালীন অতিরিক্ত ১৫,০০০ টাকা দেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে এই প্রকল্প নিয়ে বেকার যুবক-যুবতীদের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে।
চালু হল যুবশক্তি প্রকল্পের পোর্টাল
নতুন করে রাজ্য সরকার চালু করল যুবশক্তি প্রকল্পের জন্য অনলাইন পোর্টাল। এবার থেকে অনলাইনের মাধ্যমেই আপনারা যুব সাথী প্রকল্পের সমস্ত তথ্য আপডেট করা থেকে শুরু করে আবেদন করা ও টাকা পাবার স্ট্যাটাস সমস্ত কিছু চেক করে দেখে নিতে পারবেন।পোর্টালের মাধ্যমে খুব সহজেই অনলাইনে আবেদন করা যাবে বলে জানা গিয়েছে। এর ফলে ব্লক অফিস বা সরকারি দফতরে ঘুরতে হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
কারা পাবেন এই প্রকল্পের সুবিধা?
পশ্চিমবঙ্গের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে বিশেষ করে যারা মাধ্যমিক পাস করেছেন এবং ২১ বছরের বেশি বয়স তারা সকলেই এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন। যাঁরা চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন অথবা এখনও স্থায়ী কর্মসংস্থান পাননি, তাঁদের আর্থিক সহায়তা দেওয়াই সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য।
সম্ভাব্য যোগ্যতার তালিকায় থাকতে পারে—
- পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে
- বয়সসীমা নির্দিষ্ট মানদণ্ডের মধ্যে থাকতে হবে
- ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে
- আবেদনকারী বেকার হতে হবে
- আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে
প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা, সঙ্গে এককালীন ১৫ হাজার
আগে যুবসাথী প্রকল্পে মাসিক ভাতা ছিল ১,৫০০ টাকা। এখন সেই ভাতা বাড়িয়ে ৩,০০০ টাকা করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে বেকার যুবক-যুবতীরা অনেকটাই উপকৃত হবেন এমনটাই মনে করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি সরকার ঘোষণা করেছেন সরকারি চাকরিতে আবেদনের জন্য কোন টাকা লাগবে না এছাড়াও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এককালীন ১৫,০০০ টাকা দেওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। সরকারি চাকরির পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে গেলে বিভিন্ন ধরনের খরচ রয়েছে বিশেষ করে চাকরিপ্রার্থীদের কোচিং, বই কেনা এবং অনলাইন পরীক্ষার প্রস্তুতিতে এই টাকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
পুরনো যুবসাথী উপভোক্তাদের কি নতুন করে আবেদন করতে হবে?
সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটি ঘুরছে তা হলো—যাঁরা আগে থেকেই যুবসাথী প্রকল্পের টাকা পেতেন, তাঁদের কি আবার নতুন করে আবেদন করতে হবে?
প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, পুরনো যুবসাথী প্রকল্পের উপভোক্তাদের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে অধিকাংশ উপভোক্তাকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুবশক্তি প্রকল্পে স্থানান্তর করা হতে পারে। তবে তথ্য যাচাই যদি কোন বিভ্রান্তি ধরা পড়ে বা তথ্য যাচাই ঠিকঠাকভাবে না হয় তাহলে আবার নতুন করে আবেদন জানাতে হবে।
কবে থেকে শুরু হবে টাকা দেওয়া?
সরকারি ভাবে এখনও নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। তবে জুলাই মাস থেকে এই প্রকল্পের টাকা দেওয়া শুরু হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। তবে প্রশাসনিক মহলের ধারণা, যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরই ধাপে ধাপে টাকা দেওয়া শুরু হবে।
আবেদন করতে কী কী নথি লাগতে পারে?
সম্ভাব্যভাবে আবেদনকারীদের নিম্নলিখিত নথি প্রস্তুত রাখতে হতে পারে—
- আধার কার্ড
- ভোটার কার্ড
- বাসস্থানের প্রমাণপত্র
- শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট
- পাসপোর্ট সাইজ ছবি
- সচল মোবাইল নম্বর
- আধার-লিঙ্কড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের পাসবই
অনলাইনে আবেদন কীভাবে করবেন?
যখন পূর্ণাঙ্গ আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে, তখন সম্ভাব্য ধাপগুলি হতে পারে—
১. প্রথমেই আবেদনকারীকে যুবশক্তি প্রকল্পের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে হবে।
২. মোবাইল নম্বর ও OTP দিয়ে লগ-ইন করতে হবে
৩. ‘New Registration’ অপশনে ক্লিক করতে হবে
৪. এরপর আবেদনকারী সমস্ত ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ করে আবেদন পত্রটি সম্পন্ন করতে হবে।
৫. প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করতে হবে
৬. আবেদন সাবমিট করে রেফারেন্স নম্বর সংরক্ষণ করতে হবে
যুবশক্তি প্রকল্প রাজ্যের চাকরিপ্রার্থীদের কাছে নতুন আশার আলো হয়ে উঠতে চলেছে। যুগশক্তি প্রকল্পের মাধ্যমে ৩ হাজার টাকা পেলে বেকার যুবক-যুবতীদের সুবিধা হবে এবং তারা সরকারি চাকরির প্রস্তুতি আরো ভালোভাবে নিতে পারবে এবং আর্থিক দিক থেকে অনেকটা সচ্ছল হবে। মাসিক ৩,০০০ টাকার আর্থিক সহায়তা এবং অতিরিক্ত পরীক্ষার প্রস্তুতি ভাতা বহু যুবক-যুবতীর জীবনে বড় সহায়তা হতে পারে।
