পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত ছাত্রছাত্রীদের জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নতুন একটি নিয়ম জারি করলেন। পশ্চিমবঙ্গের যত ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে তাদের সকলের আপার আইডি (APAAR ID) থাকা বাধ্যতামূলক এমনই ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এখানে শিক্ষার্থীদের সমস্ত ধরনের তথ্য বিশেষ করে একাডেমিক তথ্য থেকে শুরু করে যাবতীয় তথ্য এমনকি শিক্ষার্থীদের সমস্ত মার্কশিট সহ অন্যাডিজিটাল ন্য সমস্ত শিক্ষা সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষিত থাকে। এটি একটি ১২ ডিজিটের নাম্বার এবং এটি প্রত্যেকটি ছাত্রছাত্রীদের জন্য ইউনিক নাম্বার। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ (NEP 2020) অনুযায়ী APAAR ID চালু করা হয় তবে এটি এতদিন পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে বাস্তবায়িত হয়নি অবশেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এটি বাস্তবায়িত করলেন। তবে এই আইডি কিভাবে তৈরি করবেন এবং কোথা থেকে তৈরি করতে হবে বিস্তারিত জানতে পারবেন আজকের এই প্রতিবেদনে।
কি এই আপার আইডি (APAAR ID) কার্ড?
রাজ্যের সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীরা যারা স্কুল কলেজ থেকে শুরু করে ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করছেন তাদের শিক্ষাগত সমস্ত তথ্য যাতে এক জায়গায় সংরক্ষিত থাকে এজন্য কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ অনুযায়ী এই আপার আইডি কার্ড তৈরি করার কথা বলা হয়েছিল। প্রতিটি স্টুডেন্টদের জন্য এটি একটি ইউনিক ১২ ডিজিটের নাম্বার যেই নাম্বারে প্রত্যেকটি ছাত্র-ছাত্রীদের তথ্য সংরক্ষিত থাকে। প্রত্যেকটি ছাত্রছাত্রীদের জন্য আলাদা আলাদা আইডি তৈরি করা হয়। এখানে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার্থীর সমস্ত অ্যাকাডেমিক তথ্য, রেজাল্ট, সার্টিফিকেট এবং মার্কশিট একটিমাত্র প্ল্যাটফর্মে সংরক্ষিত ও সুরক্ষিত থাকবে। এর ফলে স্কুল কলেজ থেকে শুরু করে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে ও অন্যান্য সরকারি কাজকর্মের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা হয়। এর ফলে ছাত্র-ছাত্রীদের সমস্ত ডকুমেন্টস ফিজিক্যালি বহন না করলেও চলবে।
অন্যান্য রাজ্যে এতদিন এটি চালু থাকলেও আমাদের রাজ্যে এটি চালু ছিল না এর ফলে মুখ্যমন্ত্রী তার দপ্তর থেকে এই কার্ড চালুর কথা বলেন। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের ছাত্রছাত্রীরা আধুনিক ও ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে অগ্রাধিকার পাবে। এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে অভিভাবক ও শিক্ষক শিক্ষিকাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলেই শিক্ষা আরো কার্যকার ও সহজলভ্য হবে এবং সমগ্র দেশের রাজ্য শিক্ষা ব্যবস্থায় অগ্রাধিকার পাবে ও এগিয়ে থাকবে। মুখ্যমন্ত্রীর তরফ থেকে গত 1 সেপ্টেম্বর রাজ্যের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে শিক্ষা দপ্তরে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এ প্রত্যেকটি স্টুডেন্টের জন্য এই আপার আইডি তৈরি করা বাধ্যতামূলক।
কীভাবে অনলাইনে আপার আইডি (APAAR ID) তৈরি করবেন?
প্রত্যেকটি স্টুডেন্ট নিজে নিজেই ঘরে বসে এই আইডি তৈরি করতে পারবেন। এছাড়াও স্কুল-কলেজ থেকেও চাইলে এই আইডি তৈরি করে দেওয়া হবে। বিশেষ করে মোবাইলের মাধ্যমে বা অনলাইনের মাধ্যমে এই আপার আইডি তৈরি করা যাবে। এই এই আইডি তৈরি করতে হলে শিক্ষার্থীদের অবশ্যই নিজস্ব আধারকার্ড থাকতে হবে এবং ডিজি লকারে (DigiLocker) আধার কার্ড দিয়ে একটি আইডি বানিয়ে নিতে হবে। তবে যারা অপ্রাপ্তবয়স্ক তাদের এই আইডি বানানোর জন্য অভিভাবকের সম্মতি প্রয়োজন।
কিভাবে ঘরে বসে এই কার্ড তৈরি করবেন সেটি স্টেপ বাই স্টেপ নিচে দেওয়া হল-
প্রথমেই অনলাইনের মাধ্যমে আপার আইডি কার্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করতে হবে এবং এখান থেকে মাই একাউন্টে ক্লিক করে স্টুডেন্ট অপশন সিলেক্ট করতে হবে। তবে এখানে আবেদনের আগে যদি কারো ডিজি লকারে একাউন্ট না থেকে থাকে সেটি আগে তৈরি করে নিতে হবে। ডিজি লকার অ্যাপ প্লেস্টোর থেকে ডাউনলোড করে সেখানে রেজিস্টার করতে পারবেন বা আগে থেকে যদি আইডি বানানো থাকে তার তাহলে লগইন করে নিতে হবে। এরপর আধার কার্ডের সমস্ত তথ্য দিয়ে যাচাই-করন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে। এরপর শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত তথ্য ও স্কুলের বা কলেজের নাম ও বর্তমান কোন শ্রেণীতে পড়াশোনা করছে সমস্ত বিবরণ দিতে হবে। সমস্ত তথ্য দেওয়ার পরে সাবমিট বটন এ ক্লিক করলেই আপার আইডি কার্ড তৈরি হয়ে যাবে।

কিভাবে এই আইডি কার্ড ডাউনলোড করবেন?
এই আইডি কার্ড ডাউনলোড করতে হলে আপার আইডির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে হবে। আপনারা যে আধার কার্ডের নাম্বার ও আইডি পাসওয়ার্ড দিয়ে রেজিস্টার করেছিলেন সেই তথ্য দিতে হবে। এরপর ডিজি লকার এর পিন কোড টি দিতে হবে এবং স্টুডেন্টের সমস্ত বিবরণ দিয়ে সাবমিট করলেই আপনারা এই কার্ডটি পিডিএফ ফাইল আকার ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।
এই কার্ডটি সমস্ত স্টুডেন্টদের তৈরি করতে হবে এবং এখানে সমস্ত স্টুডেন্টের তথ্য সংরক্ষিত করা থাকবে। ভবিষ্যতে স্কুল কলেজে ভর্তি থেকে শুরু করে যে কোন সরকারি কাজে এই তথ্য প্রয়োজন হবে। তাই যারা যারা এখনো এই আইডি বানাননি তারা নিজেরাই বানিয়ে নিতে পারবেন অথবা যদি কেউ বানাতে না পারেন তাহলে ইস্কুল কলেজে গিয়ে যোগাযোগ করলে সেখান থেকে বানিয়ে দেবে।

