রাজ্যে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার জট কিছুতেই কাটছে না। বিগত সরকারের আমলে ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া শুরু হলেও আর শেষ হয়নি। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরেও এই ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া এখনো পর্যন্ত চালু হয়নি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও থমকে রয়েছে ২০২২ ও ২০২৩ সালের টেট উত্তীর্ণদের ইন্টারভিউ পর্ব। সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার দাবিতে সৌরভ গাঙ্গুলি স্টেডিয়ামের সন্নিকটে এক বিশাল জমায়েত ও শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন চাকরিপ্রার্থীরা। আর এই কর্মসূচিতে আজ পশ্চিমবঙ্গের ২৩ জেলার টেট উত্তীর্ণ চাকরি প্রার্থীরা বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের কোচবিহার থেকে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গের ক্যানিং—রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েক হাজার যোগ্য টেট উত্তীর্ণ প্রার্থী এদিন কলকাতায় এসে এই সমাবেশে যোগ দেন।
বিজ্ঞপ্তির এক বছর পার, তবুও থমকে প্রক্রিয়া
চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, ২০২২ সালে প্রাথমিক টেট পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ২০২৩ সালেও ফের টেট নেওয়া হয়। দীর্ঘ টালবাহানার পর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ইন্টারভিউ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল পর্ষদ। কিন্তু বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর পুরো এক বছর পার হয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত সেই ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। যদিও ইন্টারভিউ নোটিশ প্রকাশের কিছুদিন পরে পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলার ইন্টারভিউ গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হয়েছে কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত জেলায় ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। আর নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরে এখনো পর্যন্ত এই ইন্টারভিউ নেওয়ার ব্যাপারে কিছু বলেনি। যদিও নতুন সরকার SSC-র শিক্ষক নিয়োগ ব্যাপারে বারবার বার্তা দিয়েছে কিন্তু প্রাইমারি ইন্টারভিউ ও নিয়োগের ব্যাপারে কোন বার্তাই দেয়নি। নির্বাচনের আগে সরকার তড়িঘড়ি করে বেশ কয়েকটি নির্দিষ্ট জেলায় ইন্টারভিউ নেওয়া হলেও ভোটের পর সেই প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। নতুন সরকার বসার বেশ কয়েক মাস হয়ে গেলেও এখনো প্রাইমারি ইন্টারভিউ নিয়োগের ব্যাপারে কোন বার্তা দেওয়া হয়নি তাই সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্যই আজকের এই বিশেষ সমাবেশ।
৫০ হাজার শূন্যপদ বৃদ্ধির জোরালো দাবি
সমাবেশ থেকে চাকরিপ্রার্থীরা শুধু ইন্টারভিউ চালুর দাবিই তোলেননি, পাশাপাশি শূন্যপদ বৃদ্ধির বিষয়েও সোচ্চার হয়েছেন। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বক্তব্য:
- বর্তমানে যে সংখ্যক শূন্যপদের কথা বলা হচ্ছে, তা মোট যোগ্য প্রার্থীর তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।
- রাজ্যের বেশিরভাগ প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষকের অভাবে পঠনপাঠন ব্যাহত হচ্ছে এবং হাজার হাজার পদ ফাঁকা পড়ে রয়েছে।
- অবিলম্বে শূন্যপদ বাড়িয়ে ন্যূনতম ৫০ হাজার করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী স্বচ্ছভাবে দ্রুত কাউন্সেলিং ও নিয়োগপত্র দিতে হবে।
প্রতিশ্রুতি পূরণের দাবিতে সুর চড়াচ্ছেন প্রার্থীরা
আন্দোলনকারীদের দাবি, রাজ্যে ক্ষমতায় আসার আগে নতুন সরকারের তরফে বড় মাপের শিক্ষক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। ক্ষমতায় আসার পরেও নতুন সরকার বলেছিল রাজ্যে প্রায় এক লক্ষ শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। কিন্তু বাস্তবে চলমান (On-going) নিয়োগ প্রক্রিয়াটিই এখনো মাঝপথে আটকে রয়েছে। এই অবস্থায় যোগ্য প্রার্থীদের বয়স পেরিয়ে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছে। আর দীর্ঘদিন ধরে টেট পাস করে বসে থাকা চাকরি প্রার্থীদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। তাই আর দেরি না করে অবিলম্বে সমস্ত জেলার ইন্টারভিউ সূচি ঘোষণা করে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করার জন্য পর্ষদ ও সরকারের কাছে কড়া আবেদন জানিয়েছেন আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীরা।
