পশ্চিমবঙ্গ খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের তরফ থেকে নতুন করে বিরাট পদক্ষেপ নেওয়া হল। রেশন ব্যবস্থাকে পুরোপুরি স্বচ্ছ করার জন্য এবার রাজ্যের খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে বড় একটি উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। রাজ্যে বাতিল করা হচ্ছে ভুয়ো ও অবৈধ প্রায় এক কোটি রেশন কার্ড। মূলত এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের তরফ থেকে রেশন ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ করার জন্য। মূলত আমাদের রাজ্যের যে সমস্ত সন্দেহজনক ও বেআইনি রেশন কার্ডধারী রয়েছেন তাদের সকলের রেশন কার্ড বাতিল এবং নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে।
কিছুদিন আগেই রাজ্যে হয়েছিল SIR প্রক্রিয়া এখানে বিশেষভাবে ভোটার তালিকা সংশোধন করা হয় এবং অনেকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ চলে যায়। এবার ভোটার তালিকার তথ্যের সঙ্গে রেশন কার্ডের বায়োমেট্রিক তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। এর ফলেই একের পর এক বেনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য সামনে আসছে। অনেকেই ও নথি বা তথ্য দিয়ে রেশন কার্ড বানিয়ে এতদিন পর্যন্ত রাজ্য সরকারের রেশন তুলছিল। এছাড়াও মৃত অনেক ব্যক্তির নাম করেও রেশন তোলা হচ্ছিল দীর্ঘদিন ধরে। ইতিমধ্যেই এরকম অনিয়ম ও বেআইনি রেশন কার্ডের হদিস মিলেছে আমাদের রাজ্যে। এরপরে রাজ্য সরকার এবং খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর তৎপরতা শুরু করেছে এবং রেশন কার্ড বাতিল ও নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। প্রশাসনিক ভাবে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং যাদের ক্ষেত্রে বিনিয়ম ধরা পড়বে তাদের পরিবারের সমস্ত রেশন কার্ড বাতিল করে দেওয়া হবে।
বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় অর্থাৎ বাংলাদেশ লাগোয়া জেলাগুলোতে প্রত্যেকের রেশন কার্ড ধরে ধরে যাচাই করা হচ্ছে কারণ সীমান্তবর্তী এলাকায় এই অনিয়মের হদিশ মিলেছে বহু। বিশেষ করে উত্তর দক্ষিণ দিনাজপুর, দুই চব্বিশ পরগনা, মালদা, মুর্শিদাবাদ ও জলপাইগুড়ি জেলায় এই অনিয়মের তথ্য প্রচুর পরিমাণে সরকারের নজরে এসেছে। এর মধ্যে সবথেকে বেশি অনিয়ম ধরা পড়েছে উত্তর 24 পরগনা, দক্ষিণ 24 পরগনা ও নদীয়া জেলায়। এই তিন জেলাতেই প্রায় ৩৫ লক্ষ রেশন কার্ড বাতিল ও নিষ্ক্রিয় হতে চলেছে। এর পাশাপাশি সমগ্র রাজ্যে প্রায় এক কোটির বেশি রেশন কার্ড বাতিল হবে বলে জানা যাচ্ছে। বর্তমানে বায়োমেট্রিক মিলিয়ে দেখা হচ্ছে ও রেশন দেওয়া হচ্ছে। তবে রেশন দেওয়ার আগে e-PoS মেশিনে আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে বায়োমেট্রিক তথ্য ও রেশন কার্ডের তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হচ্ছে। এর ফলেই বেজায় অনিয়ম ধরা পড়েছে আমাদের রাজ্যে। এর পর রেশন কার্ড নিয়ে প্রচুর অসাধু জালিয়াতি গুলি সামনে আসছে একের পর এক।
রাজ্য সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যারা প্রকৃত রেশন প্রাপক এবং যোগ্য শুধু তাদেরই রেশন দেওয়া হবে। যারা ইতিমধ্যে আয়কর রিটার্ন ফাইল করেছেন এছাড়াও বড় কোন ব্যবসা বা কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তাদের সকলের রেশন কার্ড নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজ্য। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে এই ও রেশন কার্ডগুলো বাতিল করা হলে একদিকে যেমন রাজ্যের কোষাগারের উপর চাপ কমবে অন্যদিকে যারা মূল প্রাপক বা যোগ্য রেশনধারি তারা রেশন পাবে। তবে প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে এই তথ্য যাচাই করার সময় যারা প্রকৃত ভারতীয় তারা যাতে সমস্যায় না করেন সেদিকে নজর দেওয়া হবে।

