অর্থের অভাবে যাতে উচ্চশিক্ষায় পড়াশুনো বাধা না হয়ে দাঁড়ায় তার জন্য কেন্দ্র সরকার নিয়ে এসেছে ছাত্র-ছাত্রী ও পড়ুয়াদের জন্য নতুন একটি ন্যাশনাল মিন্স কাম মেরিট স্কলার্শিপ (National Means cum Merit Scholarship Examination NMMSE) । প্রতিবছরের মতো নতুন এ বছরেও নতুন করে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এখানে ছাত্রছাত্রীদের প্রথমে অনলাইনে পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে হবে এবং সেই পরীক্ষায় যদি উত্তীর্ণ হয় তাহলে তাদের এই স্কলারশিপ দেওয়া হবে। রাজ্যের স্কুল গুলোতে ছাত্রছাত্রীদের এই স্কলারশিপে আবেদন জানানোর জন্য এবং এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। যারা মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী এবং এই স্কলারশিপের জন্য যোগ্য ক্যান্ডিডেট তারা আবেদন জানাতে পারবেন।

 

কারা কারা পারবেন এই স্কলারশিপ এ আবেদন জানাতে?

ন্যাশনাল মিন্স কাম মেরিট স্কলার্শিপ (National Means cum Merit Scholarship Examination NMMSE) আবেদন জানাতে পারবেন অষ্টম শ্রেণীতে পাঠদানরত ছাত্রছাত্রীরা। এছাড়াও এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন জানাতে হলে পড়ুয়াকে সপ্তম শ্রেণীতে ন্যূনতম ৫৫% নাম্বার পেতে হবে। তবে যে সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীরা বিশেষভাবে সক্ষম এবং SC ও ST ক্যাটাগরির আওতায় পড়েন তাদের বিশেষ ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও এই স্কলারশিপের আবেদন জানাতে হলে আবেদনকারীর পরিবারের বার্ষিক ইনকাম ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার কম হতে হবে। এর পাশাপাশি এখানে আবেদন জানাতে গেলে আবেদনকারীর অবশ্যই নিজস্ব আধার কার্ড থাকতে হবে এবং ব্যাংক একাউন্ট থাকতে হবে। এর পাশাপাশি ব্যাংক একাউন্টে অবশ্যই আধার কার্ডের সঙ্গে লিঙ্ক ও মোবাইল লিংক থাকতে হবে। যে সমস্ত পড়ুয়ারা এই স্কলারশিপের আওতায় আসে বিশেষ করে যারা সপ্তম শ্রেণীতে ন্যূনতম ৫৫ শতাংশের নাম্বার পেয়ে সপ্তম শ্রেণীর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে অষ্টম শ্রেণীতে পড়ছে এবং যাদের বার্ষিক ইনকাম কম ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী তারা সকলেই এই স্কলারশিপের আবেদন জানাতে পারবে। এই স্কলারশিপ এ আবেদন জানালে সর্বভারতীয় একটি পরীক্ষা হবে এবং সেখানে উত্তীর্ণ হলে স্কলারশিপ দেওয়া হবে।

 

একবার এই স্কলারশিপ এর উত্তীর্ণ হলে ১২০০০ টাকা পর্যন্ত বছরে স্কলারশিপ দেওয়া হয়। এবং একবার স্কলার্শিপ পাওয়ার পরে ৪ বছর পর্যন্ত এই স্কলারশিপ এ সুবিধা পাওয়া যায়। তাই অষ্টম শ্রেণীতে কেউ যদি এই স্কলারশিপের সুবিধা পেয়ে যায় তাহলে সে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত এই স্কলারশিপ এর সুবিধা পেয়ে যাবে। এই স্কলারশিপ এর সুবিধা পেলে দরিদ্র পরিবারের মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনায় ভীষণভাবে সাহায্য পাবে এবং পড়াশোনার জন্য আর্থিক চাপ অনেকটা কম হবে। এর ফলে রাজ্যে শিক্ষিতর হার বাড়বে এবং স্কুল ছুটের পরিমাণ অনেকটা কম হবে।

 

এই স্কলারশিপের জন্য অনলাইনে আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে এবং আবেদন চলবে ১৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ বুধবার পর্যন্ত। যারা যারা এই স্কলারশীপ এ আবেদন জানাবেন তাদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১০ই ডিসেম্বর ২০২৬ রবিবার। যারা আবেদন জানাতে ইচ্ছুক তারা সরকারি অফিসিয়াল পোর্টালে গিয়ে বিনামূল্যে আবেদন জানাতে পারবেন।

আবেদন পদ্ধতি

সরাসরি অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন জানানো যাবে। এখানে আবেদন জানানোর আগে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন করার পরে একটি আইডি পাসওয়ার্ড দেবে সেটি ভবিষ্যতের জন্য সংগ্রহ করে রাখতে হবে। এখানে আবেদন জানানোর আগে আবেদনকারীকে একটি পাসপোর্ট সাইজের ফটো রেডি করে রাখতে হবে। এছাড়াও এখানে আবেদন জানাতে গেলে ছাত্র-ছাত্রীদের বাংলার শিক্ষা স্টুডেন্ট আইডি দরকার তাই এখানে আবেদন জানানোর আগে প্রত্যেকে তাদের নিজেদের স্কুল থেকে এই আইডিটির সংগ্রহ করে রাখবে। অনলাইনে আবেদন করার পরে আবেদনের ফরমটি স্কুলে হেডমাস্টারের সিগনেচার করে সেটি আবার পুনরায় পোর্টালে গিয়ে আপলোড করে ফাইনাল সাবমিট করতে হবে। এখানে আবেদন জানানোর আগে অবশ্যই নিজের সমস্ত শিক্ষাগত যোগ্যতার ডকুমেন্ট, আবেদনকারীর আধার কার্ড, আবেদনকারীর পরিবারের বার্ষিক ইনকাম সার্টিফিকেট এবং যারা প্রতিবন্ধী বা SC ST ক্যাটাগরির তাদের সেই সার্টিফিকেট প্রয়োজন হবে। পরবর্তীকালে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে লগইন করে আবেদনটি গৃহীত হলো নাকি রিজেক্ট হলো সেটি জানা যাবে।

এখানে আবেদন জানাতে হলে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বাংলার শিক্ষা অফিসার পোর্টালে গিয়ে আবেদন জানাতে হবে। আবেদনকারীরা সরাসরি নিচের দেওয়া অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন জানাতে পারবেন –

OFFICIAL WEBSITE

By SUBHOJIT ROY

Subhojit Roy is the Technology & General News Editor at Target Chakri, covering emerging tech trends, digital innovations, and everyday breaking updates with accuracy