বর্তমান সমস্ত কিছুই ডিজিটাল হচ্ছে আর এই ডিজিটাল যুগে হাতে লেখা সার্টিফিকেট অনেক ক্ষেত্রে বৈধতা পায় না। বর্তমানে জন্ম সার্টিফিকেট একটি গুরুত্বপূর্ণ নতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও অনেক বছর আগের হাতের লেখা তৈরি করা পুরনো জন্ম সার্টিফিকেট ছিঁড়ে যাওয়া বা নষ্ট হওয়ার ভয় রয়েছে। বর্তমানের ডিজিটাল জন্ম সার্টিফিকেট(Digital birth certificate) এর গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমান সময়ে স্কুলের ভর্তি, পাসপোর্ট তৈরি থেকে শুরু করে যেকোনো সরকারি ও আইনি কাজে ডিজিটাল বা কিউআর কোডযুক্ত জন্ম শংসাপত্র প্রায় বাধ্যতামূলক হয়ে উঠেছে। জন্ম ও শংসাপত্র ছাড়া অনেক জায়গায় সরকারি কাজকর্ম প্রায় অচল হয়ে গিয়েছে। আধার বা রেশন কার্ডের মতো বার্থ সার্টিফিকেটেরও ডিজিটাল কপি থাকা এখন অত্যন্ত জরুরি। যারা বাড়িতে বসে হাতে লেখা জন্ম সার্টিফিকেটগুলো ডিজিটাল করতে পারছেন না তাদের জন্য এবার পুরসভার মাধ্যমেই পুরোনো সার্টিফিকেট ডিজিটাইজ করার সহজ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেট পেতে কী কী নথি প্রয়োজন?

পুরসভার মাধ্যমে হাতে লেখা বার্থ সার্টিফিকেটকে ডিজিটাল সার্টিফিকেটে রূপান্তর করতে মূলত ৩টি গুরুত্বপূর্ণ কাগজ জমা দিতে হবে:

  • আবেদনকারীর পুরোনো সার্টিফিকেট: বর্তমানে থাকা আসল হাতে লেখা জন্ম সার্টিফিকেটের একটি স্পষ্ট ফটোকপি (জেরক্স) জমা করতে হবে।
  • পিতা ও মাতার পরিচয়পত্র: বাবা এবং মা—উভয়েরই আধার কার্ড ও ভোটার আইডি কার্ডের স্বপ্রত্যয়িত (Self-attested) জেরক্স কপি জমা করতে হবে।
  • যোগাযোগের তথ্যসহ সাদা কাগজে দরখাস্ত: একটি সাধারণ সাদা কাগজে নির্দিষ্ট কারণ ও আবেদনকারীর সচল মোবাইল নম্বর লিখে পুরপ্রধান বা সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের উদ্দেশে লেখা সাধারণ আবেদনপত্র জমা করতে হবে।

পুরসভায় আবেদন করবেন কীভাবে?

আপনি যদি অনলাইনে জমা করতে পারেন তাহলে আপনি অনলাইনে আবেদন জানাতে পারবেন তবে প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিপত্র এবং আবেদনপত্র একসঙ্গে সংযুক্ত করে স্থানীয় পুরসভার জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন বিভাগে সরাসরি ডকুমেন্টগুলো নিয়ে গিয়ে জমা দিতে হবে। এরপর পৌরসভার কর্মীরা আপনার সমস্ত নথিপত্র যাচাই করে দেখবে এবং সমস্ত কিছু ঠিকঠাক থাকলে এবং নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ সফলভাবে শেষ হলে পুরসভার কর্মীরা তথ্য সরকারি পোর্টালে নথিভুক্ত করে ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেট প্রস্তুত করে দেন। আবেদনপত্রে মোবাইল নম্বর উল্লেখ থাকায় কাজ সম্পূর্ণ হলে আবেদনকারীকে সাধারণত এসএমএস বা ফোনের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়। এরপর আবেদনকারী জন্ম মৃত্যুর অফিসিয়াল পোর্টালে গিয়ে নিজেই সার্টিফিকেট বাড়িতে বসে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।

আবেদন করার আগে জরুরি সতর্কতা:

রাজ্যের সমস্ত এস ডি ও অফিসে বা সমস্ত পৌরসভায় অফলাইনের হাতে লেখা বার্থ সার্টিফিকেট একসঙ্গে ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নাও হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে জন্ম-মৃত্যু অফিসিয়াল প্রোর্টালে কোন কাজকর্ম হচ্ছিল না এবং নতুন করে পুরনো হাতে লেখা জন্ম সার্টিফিকেটগুলো ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন বন্ধ ছিল। দীর্ঘ বিরতির পর কৃষ্ণনগর পুরসভার মতো বেশ কিছু পৌর এলাকায় ইতিমধ্যেই পুরোনো সার্টিফিকেট ডিজিটাইজ করার প্রক্রিয়া পুরোদমে চালু হয়েছে। তা আবেদন করার আগে অবশ্যই একবার আপনার নিকটবর্তী পৌরসভায় বা এসডিও অফিসে গিয়ে এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে আসতে পারেন। বর্তমান দিনে পুরনো হাতে লেখা জন্ম সার্টিফিকেট এর গুরুত্ব অনেকটাই কমে গিয়েছে এবং এর পরিবর্তে যে কোন জায়গায় ডিজিটালাইজেশন সার্টিফিকেটের গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। তাই হাতে লেখা জন্ম সার্টিফিকেট আজি পরিবর্তন করে ডিজিটালাইজেশন করিয়ে নিন।

By SUBHOJIT ROY

Subhojit Roy is the Technology & General News Editor at Target Chakri, covering emerging tech trends, digital innovations, and everyday breaking updates with accuracy

সাম্প্রতিক খবর