এবার দেশের প্রত্যেকটি জেলায় আর্থিক দিক দিয়ে দুর্বল এবং সাধারণ মানুষদের খাদ্য ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করছে ‘প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা’ (PMGKAY)। খাদ্যশস্য বিতরণের ক্ষেত্রে এক বিরাট পরিবর্তন আনা হলো কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে। আগে জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের (NFSA) আওতায় সামান্য ভর্তুকিযুক্ত মূল্যে খাদ্যশস্য কিনতে হলেও, বর্তমানে এই দুই ব্যবস্থাকে একত্রিত করে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে খাদ্যশস্য তুলে দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকেরও বেশি প্রায় ৫৭ শতাংশ, অর্থাৎ ৮১ কোটিরও বেশি মানুষ যাতে খাদ্যাভাবে না ভোগেন, সেই লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে এই সুবিশাল উদ্যোগ। এর ফলে দেশের গরীব ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষেরা ভীষণভাবে উপকৃত হবেন বলে মনে করছে কেন্দ্র সরকার।
ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের সময়সীমা ২০২৮ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। অর্থাৎ এতদিন পর্যন্ত কেন্দ্র সরকার সম্পন্ন বিনামূল্যে খাদ্য দ্রব্য সহ রেশন সামগ্রী সরবরাহ করবেন। এর ফলে আগামী আরো বেশ কয়েক বছর দেশের সাধারণ মানুষগুলো বিশেষ করে প্রান্তিক পরিবারগুলি নিশ্চিত খাদ্য সুরক্ষার আওতায় থাকবে। এই দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য ভর্তুকি জোগাতে সরকারের প্রায় ১১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। তবে দেশের মানুষের কথার চিন্তা করে সরকার এই টাকা খরচ করছে এই রেশন সামগ্রীতে।
কারা কতটা খাদ্যশস্য বিনামূল্যে পাবেন?
রেশন কার্ডের ধরন ও ক্যাটাগরি অনুযায়ী খাদ্যশস্য বরাদ্দের পরিমাণ নির্দিষ্ট করা রয়েছে:
- PHH ও SPHH: যাদের PHH ও SPHH রেশন কার্ড রয়েছে সেই সমস্ত পরিবার মাথাপিছু মাসে ৫ কেজি করে বিনামূল্যে খাদ্যশস্য পান। অর্থাৎ পরিবারে যতজন নথিভুক্ত সদস্য থাকবেন, সেই অনুপাতে মোট বরাদ্দের পরিমাণ নির্ধারিত হয়।
- অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা (AAY): সমাজে যারা একবারে পিছিয়ে রয়েছে এবং যাদের অসহায় অবস্থা তাদের এই রেশন কার্ড দেওয়া হয়। এই কার্ডধারী প্রতিটি পরিবার সদস্য সংখ্যা নির্বিশেষে প্রতি মাসে মোট ৩৫ কেজি খাদ্যশস্য সম্পূর্ণ নিখরচায় পায়।
- চাল নাকি গম? এটি এক এক জায়গায় এক এক রকম হয় বিশেষ করে ভৌগোলিক খাদ্যাভ্যাসের ওপর ভিত্তি করে পঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান, গুজরাট, দিল্লি এবং চণ্ডীগড়ে গম বিতরণ করা হয়। পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের অন্যান্য রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে প্রধানত চাল বরাদ্দ করা হয় অর্থাৎ যেখানে যেমন খাদ্যাভাস সেই অনুযায়ী রেশন সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
যেকোনো রাজ্য থেকেই রেশন তোলার দারুণ সুবিধা
বিশেষ করে পরিযায়ী শ্রমিক বা কর্মসূত্রে যারা বাইরে কাজ করতে গিয়েছেন তাদের জন্য এটি বিশাল বড় একটি সুবিধা কারণ তারা যে কোন জায়গা থেকেই রেশন তুলতে পারবেন। পুরো ব্যবস্থাটিকে ‘ওয়ান নেশন ওয়ান রেশন কার্ড’ (ONORC) প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে উপভোক্তা নিজের এলাকায় না থাকলেও দেশের যেকোনো প্রান্তের অনুমোদিত ন্যায্য মূল্যের রেশন দোকান (Fair Price Shop) থেকে বায়োমেট্রিক অথেন্টিকেশনের মাধ্যমে নিজের প্রাপ্য খাদ্যশস্য সংগ্রহ করতে পারেন। এর ফলে প্রচুর মানুষ অন্য রাজ্যে থাকলেও তারা তাদের প্রাপ্য রেশন তুলে নিতে পারবেন।
কারা অগ্রাধিকার পান এই তালিকায়?
যাদের ডিজিটাল রেশন কার্ড রয়েছে বিশেষ করে অন্ত্যোদয় শ্রেণির ক্ষেত্রে সহায়-সম্বলহীন প্রবীণ, বিধবা বা বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তির নেতৃত্বাধীন পরিবার, ভূমিহীন দিনমজুর এবং বিশেষ পিছিয়ে পড়া জনজাতিভুক্ত পরিবারগুলি অগ্রাধিকার পায়। অন্যদিকে PHH ও SPHH উপভোক্তা তালিকা সংশ্লিষ্ট রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক সমীক্ষার ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত করা হয়। নিয়মিত রেশন দ্রব্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন বেশ কিছুদিন রেশন না তুললে রেশন কার্ড অচল হয়ে যাওয়া সম্ভাবনা রয়েছে। নিয়মিত রেশন সংগ্রহের জন্য অবশ্যই আপনার নিজের ন্যায্য খাদ্যশস্য সংগ্রহ করতে উপভোক্তাদের শুধুমাত্র রেশন কার্ড সচল রাখা এবং আধার সংযুক্তিকরণ ঠিক রাখা প্রয়োজন।

