যে সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীরা মেধাবী এবং উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী তাদের উদ্দেশ্যে এবার চালু করা হয়েছে নতুন একটি স্কলারশিপ। বিশেষ করে যারা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে এবং পড়াশোনায় আগ্রহী তাদের জন্য নতুন করে এ বছরেও চালু করা হলো স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপ। আগ্রহী ছাত্র-ছাত্রীরা এখানে আবেদন জানাতে পারবেন। প্রতিবছরের মত এ বছরের আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে এবং এবছরেও প্রচুর দুস্থ ছাত্রছাত্রীদের এই স্কলারশিপ দেওয়া হবে। শিক্ষক দিবসের দিনেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই স্কলারশিপের বিশেষ ঘোষণা করলেন। মূলত দেশ-বিদেশে পড়াশোনা করা ছাত্রছাত্রীরা এই স্কলারশিপের মাধ্যমে ১০০% পর্যন্ত সহায়তা পেয়ে যাবেন। কারা কারা এই স্কলারশিপ এ আবেদন করতে পারবেন? কতদিন পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ চলবে? আবেদন করতে কি কি যোগ্যতা লাগবে? সমস্ত কিছুই জানতে পারবেন আজকের প্রতিবেদনে।
স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপ (Swami Vivekananda merit scholarship)
স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপ হল একটি মেরিট স্কলার্শিপ। মূলত দুস্থ ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা যারা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে রয়েছেন এবং পড়াশোনায় ভালো রেজাল্ট করেছেন মূলত ৬০% এর বেশি তারা যাতে পড়াশোনা ছেড়ে না দেন এবং পড়াশোনায় আগ্রহী হন তাদের উদ্দেশ্যেই এই স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট স্কলার্শিপ চালু করা হয়েছিল। ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে পড়াশোনায় আগ্রহী পান এবং উচ্চশিক্ষা গ্রহণে অর্থনৈতিক বাধা না হয় তার জন্যই রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এই স্কলারশিপ চালু করা হয়েছে। বিশেষ করে যারা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে আগ্রহী কিন্তু টাকা-পয়সার অভাবে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারছেন না বা পড়াশুনায় যারা ভালো রেজাল্ট করেছেন তাদের সকলকেই এই স্কলারশি প্রদান করা হয়ে থাকে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে। মূলত যারা মাধ্যমিক পাস করেছেন এছাড়াও যারা উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে কলেজে ভর্তি হচ্ছেন বা কলেজে পড়াশোনা করছেন তারা সকলেই এই স্কলারশিপের আবেদন করতে পারবেন। মূলত এই স্কলারশীপের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন কলেজে পড়াশোনা করলে অথবা বিদেশের বেশ কিছু কলেজে পড়াশোনা করলে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
এই স্কলারশিপের মাধ্যমে যে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে:
পশ্চিমবঙ্গের ছাত্রছাত্রীরা এই স্কলারশিপের সুবিধা পাবেন। দেশের যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় অথবা কলেজে পড়াশোনা করলে ছাত্রছাত্রীরা এই স্কলারশিপে টাকা পেয়ে যাবেন। মূলত গ্রাজুয়েশন পাশে ১২ হাজার টাকা এবং স্নাতক পাশে ২৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়ে থাকে এই স্কলারশিপের মাধ্যমে। এছাড়াও যে সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীরা ওভারঅল র্যাঙ্ক (QS Overall Rankings) অনুযায়ী বিশ্বের ১০০ নাম্বার তালিকার যে কোন বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা করবেন তাদের এই স্কলারশিপের মাধ্যমে ১০০% খরচ বহন করবে সরকার। এর পাশাপাশি এই সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের স্বাস্থ্য বীমাও দেওয়া হবে।
এছাড়াও যে সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীরা দেশের শীর্ষস্থান এর যে কোন বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনার সুযোগ পাবেন তাদেরও ১০০% পড়াশোনার খরচ বহন করবে রাজ্য সরকার। তবে এক্ষেত্রে পড়াশোনার খরচ কত হবে বা রেঙ্ক অনুযায়ী সেই কলেজে পড়াশোনার খরচ কেমন সেই হিসেবে স্কলারশিপের অর্থ প্রদান করা হবে।
মূলত পড়াশোনার জন্য অর্থনৈতিক বাধা যাতে না হয় সেই উদ্দেশ্যে ছাত্রছাত্রীদের এই স্কলারশিপ প্রদান করা হয়ে থাকে। মূলত যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মাধ্যমিক অথবা উচ্চমাধ্যমিক পাস করে থাকলে এবং স্নাতক বা স্নাতক স্তরে পড়াশুনা করলে এই স্কলারশিপের অর্থ প্রদান করা হয়ে থাকে। এর পাশাপাশি যারা গবেষণা করছেন বা আরো উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখছেন তাদের জন্য এই স্কলারশিপ প্রদান করা হয়ে থাকে। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীরা যাতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে দেশের নাম উজ্জ্বল করতে পারে ও রাজ্যের নাম উজ্জ্বল করতে পারে তার উদ্দেশ্যেই দুস্থ ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের এই স্কলারশিপ প্রদান করা হয়ে থাকে যাতে তাদের পড়াশুনো মাঝপথে অর্থনৈতিক বাধার জন্য থমকে না যায়।
বর্তমান দিনের ছাত্রছাত্রীরা হলো আগামী দিনের ভবিষ্যৎ তাই যাদের মেধার জোর রয়েছে তারা যাতে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে সেই উদ্দেশ্যেই এই স্কলারশিপ চালু করা হয়েছে। দুস্থ ও মেধাবী এবং আগ্রহী ছাত্রছাত্রীরা এই স্কলারশিপে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন জানাতে পারবেন। সরাসরি অফিসিয়াল পোর্টালে গিয়ে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে যারা এখনো পর্যন্ত এই স্কলারশিপের টাকা পাননি তাদের নতুন করে আবেদন জানাতে হবে এবং যারা এর আগেও এই স্কলারশিপের টাকা পেয়েছেন তাদের রেনুয়াল করে আবার আবেদনের ফর্মটি পূরণ করতে হবে। এরপর ইনকাম সার্টিফিকেট জোগাড় করতে হবে ও প্রয়োজনীয় বেশ কিছু সার্টিফিকেট জোগাড় করে ও শিক্ষাগত যোগ্যতার ডকুমেন্টগুলো জেরক্স করে কলেজে গিয়ে আবেদনের ফরমটি জমা দিতে হবে।

