পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষিত বেকার যুবক যুবতীদের জন্য রাজ্য সরকার চালু করতে চেয়েছিলেন যুবশক্তি ভরসা কার্ড প্রকল্প। এর ফলে বর্তমান এই প্রকল্পটি সবথেকে বেশি চর্চায় রয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্য সরকার শিক্ষিত বেকার যুবক যুবতীদের প্রতি মাসে তিন হাজার করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। ফলে ইতিমধ্যেই বহু যুবক-যুবতী নিজেদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন।

নতুন এই প্রকল্পে আবেদন করার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার বিভিন্ন ডকুমেন্টস গুলো রেডি রাখতে হবে। বিশেষ করে যারা মাধ্যমিক পাস তাদের মাধ্যমিক পাশের সমস্ত ডকুমেন্টস এবং যারা গ্র্যাজুয়েট পাস তাদের গ্যাজুয়েট পাশের সমস্ত অরিজিনাল মার্কশিট ও সার্টিফিকেট রেডি রাখা প্রয়োজন। এই প্রকল্পে আবেদন করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইতিমধ্যেই বহু প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী সার্টিফিকেট তোলার জন্য আবেদন করছেন। কারণ ভবিষ্যতে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হলে এই নথি জমা দিতে হতে পারে বলে অনেকের ধারণা।
অরিজিনাল ডিগ্রি সার্টিফিকেট সংগ্রহের জন্য নির্ধারিত আবেদনপত্র পূরণ করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের (Controller of Examinations) কাছে জমা দিতে হয়। অন্যদিকে প্রভিশনাল সার্টিফিকেটের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধান বা কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়াও আবেদনকারীদের ফাইনাল মার্কশিট, রেজিস্ট্রেশন কার্ড, অ্যাডমিট কার্ড এবং সরকার স্বীকৃত পরিচয়পত্রের কপি জমা দিতে হতে পারে।
শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণসহ আরো বেশ কিছু ডকুমেন্টস রেডি রাখার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, বাসস্থানের প্রমাণপত্র, ব্যাংক পাসবই, পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং সক্রিয় মোবাইল নম্বর উল্লেখযোগ্য। তবে সরকারিভাবে চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এই নথির তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
রাজ্য বাজেটে যে প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যে সমস্ত বেকার যুবক-যুবতীদের বয়স ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে তারা এই সুবিধা পাবেন। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী যারা গ্রেজুয়েশন পাস তারা প্রতি মাসে মাসিক ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। অন্যদিকে যারা মাধ্যমিক পাস তারা প্রতি মাসে মাসিক ২,০০০ টাকা ভাতা পাবেন বলে জানা যাচ্ছে।
এখানে আবেদন করতে হলে আবেদনকারী বেশ কিছু শর্ত পালন করতে হবে। আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। নির্দিষ্ট বয়সসীমার মধ্যে থাকতে হবে এবং বর্তমানে কোনও সরকারি চাকরিতে নিযুক্ত থাকা চলবে না। পাশাপাশি অন্য কোনও বড় সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের নিয়মিত আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করলে আবেদন প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়তে পারে।
