প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে পেনশন চালু রাখতে গিয়ে বয়স্ক মানুষদের নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কারণ একটাই—তাঁরা বেঁচে আছেন কি না, তার প্রমাণ হিসেবে জমা দিতে হয় ‘লাইফ সার্টিফিকেট’ বা জীবন প্রমাণপত্র। এবার থেকে পেনশন তুলতে গেলে এই সার্টিফিকেট থাকা বাধ্যতামূলক। সাধারণত নভেম্বর মাস এলেই ব্যাংক আর পোস্ট অফিসের সামনে প্রবীণ মানুষদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে। অনেকের পক্ষেই শারীরিক দুর্বলতা বা অসুস্থতার কারণে এই লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকা সম্ভব হয় না। তবে এই সমস্যার এক দারুণ ও সহজ সমাধান রয়েছে। কোথাও না গিয়ে নিজের হাতের সাধারণ স্মার্টফোন ব্যবহার করেই পুরো কাজটি ঘরে বসে সেরে ফেলা যায়। এবার আপনি স্মার্ট ফোন দিয়েই বাড়িতে বসে এই কাজটি করলে আর আপনাকে ব্যাংকে গিয়ে লাইন দিয়ে দাঁড়াতে হবে না।
লাইফ সার্টিফিকেট দেওয়া কেন এত জরুরি?
কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, প্রত্যেক পেনশনভোগীকে বছরে একবার এই প্রমাণপত্র দাখিল করতে হয়। যদি সময়মতো এই নথি জমা না দেওয়া হয়, তবে ব্যাংক সাময়িকভাবে প্রতি মাসের পেনশন পাঠানো বন্ধ করে দেয়। ফলে নিয়মিত সংসার চালানো বা চিকিৎসার খরচ মেটাতে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়। এর ফলে যারা পেনশন পায় তাদের বছরে একবার করে এই কাজটি করতে হয়। তবে সুখের বিষয় হলো, প্রযুক্তি এখন এতটাই এগিয়েছে যে এই কাজের জন্য আর প্রবীণ মানুষদের বাড়ির বাইরে পা ফেলার দরকার পড়ে না। এবার ঘরে বসেই আপনি এই কাজটি করতে পারবেন নিজে নিজেই।
মোবাইলে যে দুটি দরকারি অ্যাপ লাগবে
ঘরে বসে এই সুবিধা পাওয়ার জন্য ফোনে দুটি অফিশিয়াল অ্যাপ থাকা দরকার। গুগল প্লে স্টোর থেকে Jeevan Pramaan Face App এবং AadhaarFaceRD App নামিয়ে নিতে হবে। এই দুটি অ্যাপ একসঙ্গে কাজ করে পেনশনারের মুখের ছবি বা চেহারা মিলিয়ে নেয়। অ্যাপ ডাউনলোড শেষ হলে জীবন প্রমাণ অ্যাপটি চালু করে নিতে হয়।
খুব সহজেই মোবাইল থেকে নিজের তথ্য দিন
অ্যাপ চালু করার পর প্রথমে পরিবারের যেকোনো সদস্য বা পেনশনার নিজে নিজের নাম দিয়ে সিস্টেমটি চালু করে নিতে পারেন। এটি কেবল একবারই করতে হয়। এর পরের অংশে পেনশনারের দরকারি কিছু তথ্য দিতে হবে—যেমন পেনশন পেমেন্ট অর্ডার বা PPO নম্বর, যে ব্যাংকে পেনশন জমা হয় সেই অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং আধার নম্বর। তথ্যগুলো খুব সাবধানে মিলিয়ে নেওয়া ভালো, যাতে কোনো ভুল না থাকে।
ক্যামেরা অন করে মুখের ছবি মিলিয়ে নেওয়া
সব তথ্য বসানোর পর মোবাইলের সামনের ক্যামেরা অন করার নির্দেশ আসবে। এরপর ভালো আলো আছে এমন জায়গায় বসে শান্তভাবে ক্যামেরার দিকে তাকাতে হবে। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে শুধু স্বাভাবিকভাবে চোখের পলক ফেললেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুখ স্ক্যান হয়ে যাবে। পুরো কাজটি হতে মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় লাগে।
কাজ শেষ হলে কী পাবেন?
চেহারা সঠিকভাবে মিলে গেলেই স্ক্রিনে একটি কনফার্মেশন চলে আসবে এবং সাথে সাথেই একটি নির্দিষ্ট Pramaan ID পাওয়া যাবে। একই সাথে এই নম্বরটি মোবাইলে এসএমএস মারফতও চলে আসে। এই আইডি নম্বরটি কোথাও লিখে রাখা ভালো। ব্যাংকে গিয়ে এই সার্টিফিকেট আলাদা করে জমা দেওয়ার কোনো ঝামেলা নেই, কারণ পেনশন প্রদানকারী ব্যাংক বা ট্রেজারি অফিস সরাসরি সরকারি সার্ভার থেকেই তা দেখতে পেয়ে যায়। ফলে পেনশন বন্ধ হওয়ার কোনো ভয় থাকে না।
